হিন্দু পারিবারিক আইনে বিচ্ছেদ বা তালাক: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও আইন

ভূমিকা

হিন্দু ধর্মে বিবাহকে একটি পবিত্র বন্ধন হিসেবে গণ্য করা হয়, যা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে আজীবন স্থায়ী সম্পর্কের প্রতীক। এটি শুধুমাত্র সামাজিক নয়, বরং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। হিন্দু ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, বিবাহ একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক এবং এর ফলে হিন্দু পারিবারিক আইনে তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদের কোনো সরাসরি বিধান নেই। তবে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পৃথক বসবাস এবং ভরণপোষণের অধিকার দেওয়া হয়েছে।


হিন্দু আইনে তালাকের অনুপস্থিতি

বাংলাদেশে প্রচলিত হিন্দু পারিবারিক আইন অনুযায়ী তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদের কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই।
হিন্দু সমাজে বিবাহকে “অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক” হিসেবে দেখা হয়। ঋষি মনুর মতে, স্ত্রীর কর্তব্য এমনকি মৃত্যুর পরও চলতে থাকে এবং তার দ্বিতীয় স্বামী থাকতে পারে না। এই ধারণার ভিত্তিতে বাংলাদেশে হিন্দুদের জন্য তালাকের কোনো বৈধতা নেই।

ভারতের মতো দেশে ১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইন (Hindu Marriage Act) প্রণয়নের মাধ্যমে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই আইন কার্যকর নয়। ফলে বাংলাদেশের হিন্দু নারীরা এখনো এই অধিকার থেকে বঞ্চিত।


পৃথক বসবাস ও ভরণপোষণ

যদিও তালাকের কোনো ব্যবস্থা নেই, ১৯৪৬ সালের The Hindu Married Women’s Right to Separate Residence and Maintenance Act অনুসারে কিছু নির্দিষ্ট কারণে পৃথক বসবাস এবং ভরণপোষণের অধিকার দেওয়া হয়েছে।

পৃথক বসবাসের কারণসমূহ:

১. স্বামী যদি সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হন (যেমন কুষ্ঠ বা সিফিলিস)। ২. স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করেন। ৩. স্বামী যদি গৃহে উপপত্নী রাখেন। ৪. স্বামী যদি ধর্মান্তর গ্রহণ করেন। ৫. স্বামী যদি স্ত্রীকে পরিত্যাগ করেন। ৬. স্বামী যদি পুনরায় বিয়ে করেন। ৭. অন্যান্য যৌক্তিক কারণ।

ভরণপোষণ পাওয়ার শর্ত:

  • স্ত্রী যদি অসচ্চরিত্রা না হন।
  • স্ত্রী যদি অন্য ধর্ম গ্রহণ না করেন।
  • স্ত্রী যদি যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতে অস্বীকৃতি না জানান।

আদালতের মাধ্যমে সেপারেশন মামলা

বাংলাদেশে অনেক হিন্দু নারী সেপারেশন মামলা (পৃথক বসবাস) দায়ের করে থাকেন। যদিও এটি সরাসরি ডিভোর্স নয়, তবে আদালতের রায় অনুযায়ী তারা পৃথকভাবে বাস করার অধিকার পান এবং ভরণপোষণের দাবিও করতে পারেন।
এক্ষেত্রে আদালত থেকে সেপারেশনের ডিক্রি পাওয়ার পর অনেক নারী ডিভোর্স চেয়ে আবেদন করেন, যদিও তা আইনগতভাবে সরাসরি সম্ভব নয়।


ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান

ভারতে ১৯৫৫ সালে প্রণীত হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ সম্ভব: ১. ব্যভিচার (Adultery)। ২. নিষ্ঠুরতা (Cruelty)। ৩. ত্যাগ করা (Desertion)। ৪. মানসিক ব্যাধি বা দুরারোগ্য রোগ। ৫. ধর্ম পরিবর্তন করা। ৬. সাত বছর ধরে নিখোঁজ থাকা।

এই আইনের আওতায় ভারতীয় হিন্দুরা আদালতের মাধ্যমে ডিভোর্স নিতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশে এই আইন কার্যকর নয় বলে এখানকার হিন্দুরা এই সুবিধা পান না।


বর্তমান আন্দোলন ও সংস্কারের দাবি

বাংলাদেশে অনেক মানবাধিকার সংগঠন এবং সচেতন ব্যক্তি হিন্দু পারিবারিক আইনে সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন
বিশেষ করে নারীদের জন্য বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। উদাহরণস্বরূপ:

  • শিখা দত্তের মামলা: একজন কলেজ শিক্ষিকা শিখা দত্ত ২০২০ সালে পারিবারিক আদালতে ডিভোর্স চেয়ে আবেদন করেছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নজির হতে পারে।

হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদ তালাক ডিভোর্স

হিন্দু পারিবারিক আইনে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া কী?

বাংলাদেশের প্রচলিত হিন্দু পারিবারিক আইন অনুযায়ী, তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদের কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। হিন্দু ধর্মে বিবাহকে একটি পবিত্র এবং অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে বাংলাদেশে হিন্দুদের জন্য সরাসরি তালাক নেওয়ার কোনো বৈধতা নেই। তবে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পৃথক বসবাসের অধিকার এবং ভরণপোষণের দাবি করা যেতে পারে।

ভারতের মতো দেশে ১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইন (Hindu Marriage Act) প্রণয়নের মাধ্যমে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই আইন বাংলাদেশে কার্যকর নয়। বাংলাদেশের হিন্দুরা এখনো এই ধরনের আইনি সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

তবে, যদি কোনো হিন্দু নারী বা পুরুষ বিচ্ছেদের জন্য আদালতে আবেদন করতে চান, তাহলে তারা সাধারণত নিম্নলিখিত কারণগুলোর ভিত্তিতে পৃথক বসবাসের জন্য মামলা করতে পারেন:

  1. স্বামী বা স্ত্রী নিষ্ঠুর আচরণ করলে।
  2. স্বামী বা স্ত্রী পরিত্যাগ করলে।
  3. স্বামী বা স্ত্রী অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করলে।
  4. ধর্মান্তর গ্রহণ করলে।

হিন্দু আইন অনুযায়ী তালাকের জন্য কি কি শর্ত রয়েছে?

বাংলাদেশে হিন্দু পারিবারিক আইনে তালাকের কোনো সরাসরি বিধান নেই, তবে ভারতের হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫-এর আওতায় তালাকের জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। যদিও এই আইন বাংলাদেশে প্রযোজ্য নয়, তবুও এটি উল্লেখযোগ্য কারণ এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে হিন্দুদের জন্য কার্যকর:

  1. ব্যভিচার (Adultery): স্বামী বা স্ত্রী যদি অন্য কারো সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করেন।
  2. নিষ্ঠুরতা (Cruelty): শারীরিক বা মানসিকভাবে অত্যাচার করা হলে।
  3. ত্যাগ (Desertion): স্বামী বা স্ত্রী যদি দুই বছর ধরে পরিত্যাগ করেন।
  4. মানসিক ব্যাধি: একজন সঙ্গী যদি গুরুতর মানসিক রোগে আক্রান্ত হন।
  5. ধর্ম পরিবর্তন: স্বামী বা স্ত্রী যদি অন্য ধর্ম গ্রহণ করেন।
  6. নিখোঁজ থাকা: সাত বছরের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকলে।

বাংলাদেশে এই ধরনের শর্তগুলো সরাসরি প্রযোজ্য না হলেও পৃথক বসবাস এবং ভরণপোষণের দাবির ক্ষেত্রে এগুলো আদালতে যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা যেতে পারে।

বিচ্ছেদ বা তালাকের ক্ষেত্রে হিন্দু নারীর অধিকার কী?

বাংলাদেশে হিন্দু নারীদের জন্য সরাসরি তালাক নেওয়ার অধিকার নেই। তবে, ১৯৪৬ সালের The Hindu Married Women’s Right to Separate Residence and Maintenance Act অনুসারে কিছু নির্দিষ্ট কারণে পৃথক বসবাস এবং ভরণপোষণের অধিকার দেওয়া হয়েছে।

পৃথক বসবাসের অধিকার পাওয়ার কারণসমূহ:

  1. স্বামী সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হলে (যেমন কুষ্ঠরোগ)।
  2. স্বামী স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করলে।
  3. স্বামী গৃহে উপপত্নী রাখলে।
  4. স্বামী ধর্মান্তর গ্রহণ করলে।
  5. স্বামী পুনরায় বিয়ে করলে।

ভরণপোষণ পাওয়ার শর্ত:

  1. স্ত্রী অসচ্চরিত্রা না হলে।
  2. স্ত্রী অন্য ধর্ম গ্রহণ না করলে।
  3. যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া স্ত্রীর পক্ষ থেকে আলাদা থাকার দাবি না থাকলে।

এছাড়াও, আদালতের মাধ্যমে সেপারেশন ডিক্রি পাওয়ার পর নারীরা ভরণপোষণের দাবিও করতে পারেন।

হিন্দু পারিবারিক আইনে বিচ্ছেদের পর সম্পত্তির বণ্টন কিভাবে হয়?

বাংলাদেশের প্রচলিত হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে নারীদের অধিকারের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাধারণত:

  1. কন্যারা পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার পান, তবে ভাইদের তুলনায় তাদের অংশ কম হতে পারে।
  2. স্ত্রীরা শুধুমাত্র মৃত স্বামীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির উপর সীমিত অধিকার পান (যাকে “লাইফ ইন্টারেস্ট” বলা হয়)। অর্থাৎ, তারা জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবেন কিন্তু বিক্রি করতে পারবেন না।

বিচ্ছেদের পরে নারীরা সাধারণত কোনো অতিরিক্ত সম্পত্তি দাবি করতে পারেন না কারণ বাংলাদেশের প্রচলিত হিন্দু আইনে বিবাহ-বিচ্ছেদ পরবর্তী সম্পত্তি বণ্টনের কোনো বিধান নেই।

তালাকের জন্য হিন্দু আইন অনুযায়ী আদালতে কিভাবে আবেদন করতে হয়?

বাংলাদেশে সরাসরি তালাক নেওয়ার ব্যবস্থা না থাকলেও, পৃথক বসবাস এবং ভরণপোষণের দাবিতে আদালতে আবেদন করা যায়। এর জন্য নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়:

  1. আইনি পরামর্শ: প্রথমেই একজন দক্ষ পারিবারিক আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করুন যিনি আপনার মামলা পরিচালনা করবেন।
  2. মামলা দাখিল: সংশ্লিষ্ট পারিবারিক আদালতে একটি মামলা দাখিল করুন যেখানে আপনি আপনার অভিযোগগুলো উল্লেখ করবেন (যেমন: নিষ্ঠুরতা, ত্যাগ ইত্যাদি) এবং পৃথক বসবাস ও ভরণপোষণের দাবি করবেন।
  3. প্রমাণ উপস্থাপন: আপনার অভিযোগ সমর্থন করার জন্য যথাযথ প্রমাণ যেমন নথিপত্র, সাক্ষী ইত্যাদি জমা দিন।
  4. আদালতের রায়: বিচারকের রায় অনুযায়ী আপনি পৃথক বসবাস এবং ভরণপোষণের অধিকার পেতে পারেন।

হিন্দু পারিবারিক আইনে বিচ্ছেদ বা তালাক: সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

১. হিন্দু ধর্মে বিবাহ বিচ্ছেদের কোনো আইন আছে কি?

উত্তর: বাংলাদেশে প্রচলিত হিন্দু পারিবারিক আইনে বিবাহ বিচ্ছেদের (তালাক) কোনো সরাসরি বিধান নেই। হিন্দু ধর্মে বিবাহকে একটি পবিত্র এবং অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে, ভারতে ১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশে কার্যকর নয়।


২. বাংলাদেশের হিন্দু নারীরা কি আদালতের মাধ্যমে ডিভোর্স নিতে পারেন?

উত্তর: না, বাংলাদেশের প্রচলিত হিন্দু পারিবারিক আইনে ডিভোর্স নেওয়ার কোনো বৈধ উপায় নেই। তবে, নারীরা আদালতের মাধ্যমে পৃথক বসবাসের অধিকার (সেপারেশন) এবং ভরণপোষণের দাবি করতে পারেন।


৩. পৃথক বসবাসের অধিকার কীভাবে পাওয়া যায়?

উত্তর: ১৯৪৬ সালের The Hindu Married Women’s Right to Separate Residence and Maintenance Act অনুসারে, কিছু নির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে স্ত্রী আদালতের মাধ্যমে পৃথক বসবাসের অধিকার পেতে পারেন। যেমন:

  • স্বামীর নিষ্ঠুর আচরণ।
  • স্বামীর গৃহে উপপত্নী রাখা।
  • স্বামীর সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়া।
  • স্বামীর ধর্মান্তর গ্রহণ ইত্যাদি।

৪. পৃথক বসবাসের সময় স্ত্রী কি ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন?

উত্তর: হ্যাঁ, স্ত্রী যদি অসচ্চরিত্রা না হন এবং যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতে অস্বীকৃতি না জানান, তাহলে তিনি ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন।


৫. ভারতে হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী কোন কোন কারণে ডিভোর্স নেওয়া যায়?

উত্তর: ভারতে ১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত কারণে ডিভোর্স নেওয়া যায়:

  1. ব্যভিচার (Adultery)।
  2. নিষ্ঠুরতা (Cruelty)।
  3. ত্যাগ করা (Desertion)।
  4. মানসিক ব্যাধি বা দুরারোগ্য রোগ।
  5. ধর্ম পরিবর্তন করা।
  6. সাত বছর ধরে নিখোঁজ থাকা।

৬. বাংলাদেশে হিন্দু নারীদের জন্য তালাকের অধিকার কেন নেই?

উত্তর: বাংলাদেশের প্রচলিত হিন্দু পারিবারিক আইন ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ আমলের পুরনো আইনের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই আইনে বিবাহকে একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তালাকের কোনো বিধান রাখা হয়নি।


৭. সেপারেশন ও ডিভোর্সের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর:

  • সেপারেশন হলো স্বামী-স্ত্রীর আলাদা বসবাস করার অধিকার, যেখানে তারা একসঙ্গে থাকেন না কিন্তু তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় থাকে।
  • ডিভোর্স হলো বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে যাওয়া। বাংলাদেশে হিন্দুদের জন্য সেপারেশনের ব্যবস্থা আছে, কিন্তু ডিভোর্সের ব্যবস্থা নেই।

৮. বর্তমান সময়ে কি হিন্দু পারিবারিক আইনে সংস্কারের দাবি উঠেছে?

উত্তর: হ্যাঁ, বর্তমানে অনেক মানবাধিকার সংগঠন এবং সচেতন ব্যক্তি বিশেষ করে নারীদের জন্য বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন করছেন। এটি ভবিষ্যতে আইন সংস্কারের সম্ভাবনা তৈরি করছে।


৯. একজন স্ত্রী যদি তার স্বামীকে পরিত্যাগ করেন তবে তিনি কী করতে পারেন?

উত্তর: যদি একজন স্ত্রী তার স্বামীকে পরিত্যাগ করেন বা যৌক্তিক কারণে আলাদা থাকতে চান, তবে তিনি আদালতের মাধ্যমে পৃথক বসবাস ও ভরণপোষণের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এটি সরাসরি তালাক নয়।


১০. বাংলাদেশের প্রথম নজিরযোগ্য ডিভোর্স মামলা কোনটি ছিল?

উত্তর: ২০২০ সালে শিখা দত্ত নামের একজন কলেজ শিক্ষিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারিবারিক আদালতে ডিভোর্স চেয়ে আবেদন করেছিলেন। এটি একটি নজিরযোগ্য ঘটনা হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

সূত্রসমূহ:

  1. BBC বাংলা
  2. The Hindu Married Women’s Right to Separate Residence and Maintenance Act, 1946
  3. Hindu Marriage Act, 1955

Share  This Article Now

Contact info:
Advocate Rashed CEO Spark Advocates
Adv. Rashedujjaman Rashed
Plot 299, Ward 2, Koya Golahat, 1st Floor Opposite Golahat Puraton Mosque, Saidpur