• এখন খোলা
  • সৈয়দপুর, নীলফামারী

ভরণপোষণ মামলা: স্ত্রী ও সন্তানের দাবির প্রক্রিয়া

বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় কিংবা স্বামীর অন্যায় আচরণের কারণে পৃথক বসবাস করতে বাধ্য হলে স্ত্রী ও সন্তানের বা ভরণপোষণ প্রদান করা স্বামীর একটি অপরিহার্য আইনি দায়িত্ব। অনেক সময় স্বামী বিনা কারণে স্ত্রীকে ত্যাগ করেন, সন্তানদের ভরণপোষণ দেন না কিংবা দ্বিতীয় বিবাহ করে প্রথম পরিবারকে অবহেলা করেন। এমন ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ ও মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ মামলা দায়ের করে নিয়মিত মাসিক অর্থ ও বকেয়া খরচ আদায় করা যায়। নিচে এ সংক্রান্ত সকল আইনি ধাপ বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হলো।

ভরণপোষণ কী এবং কাদের ভরণপোষণ দিতে স্বামী বাধ্য?

আইন অনুযায়ী ভরণপোষণ (Maintenance / Nafqah) বলতে বুঝায় একজন স্ত্রী ও সন্তানের সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও সন্তানের শিক্ষার যাবতীয় যুক্তিসঙ্গত ব্যয়ভার।

  • স্ত্রীর অধিকার: বিবাহ কার্যকর থাকা অবস্থায় স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার পূর্ণ অধিকারী। স্বামী যদি অন্যায়ভাবে বাড়ি থেকে বের করে দেন বা শারীরিক/মানসিক নির্যাতন করেন, তবে স্ত্রী পৃথক থেকেও ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন। ের পর ইদ্দতকালীন ৩ মাসের ভরণপোষণও স্বামী দিতে বাধ্য।
  • সন্তানের অধিকার: পিতা যতদিন জীবিত আছেন, ততদিন পুত্রসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক বা স্বাবলম্বী হওয়া পর্যন্ত এবং কন্যাসন্তান বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত তাদের যাবতীয় ভরণপোষণ পিতা বহন করতে আইনত বাধ্য। এমনকি পিতা-মাতার মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে সন্তান মায়ের কাছে থাকলেও পিতা সন্তানের সম্পূর্ণ খরচ দেবেন।

ভরণপোষণ নির্ধারণের মাপকাঠি

আদালত কত টাকা ভরণপোষণ মঞ্জুর করবেন তা কোনো নির্দিষ্ট এক ছকে বাঁধা নয়। বিজ্ঞ আদালত সাধারণত কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করে মাসিক ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণ করেন:

  1. স্বামীর সামাজিক মর্যাদা ও মাসিক/বাৎসরিক আর্থিক আয়।
  2. স্ত্রীর পারিবারিক অবস্থান ও ন্যূনতম মৌলিক চাহিদার মাত্রা।
  3. সন্তানের বয়স, পড়াশোনার স্তর (স্কুল/কলেজের টিউশন ফি) ও চিকিৎসা খরচ।
  4. স্বামীর স্থাবর সম্পত্তি (জমি, বাড়ি, ব্যবসা) থেকে উপার্জিত মুনাফা।

ভরণপোষণ মামলা করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

  • কাবিননামা / নিকাহনামা: বিবাহের বৈধতার প্রমাণ।
  • সন্তানের জন্ম নিবন্ধন সনদ (Birth Certificate): পিতৃত্বের প্রমাণ এবং সন্তানের সঠিক বয়স প্রমাণের জন্য।
  • স্কুল/মাদ্রাসার বেতন রসিদ বা ফি চার্ট: সন্তানের প্রকৃত শিক্ষাব্যয় আদালতে প্রদর্শনের জন্য।
  • চিকিৎসা খরচের প্রেসক্রিপশন ও বিল (যদি থাকে)।
  • স্বামীর আয়ের প্রমাণপত্র: যেমন বেতন সার্টিফিকেট, ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা জমির খতিয়ান/দলিলের ফটোকপি (যা স্বামীর সচ্ছলতা প্রমাণে সহায়তা করে)।
  • বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি।

মামলার প্রক্রিয়া ও অন্তর্বর্তীকালীন ভরণপোষণ (Interim Maintenance)

পারিবারিক আদালতে দাখিলের পর মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের প্রতিদিনের আহার ও শিক্ষার ব্যয় স্থগিত রাখা সম্ভব নয়। তাই পারিবারিক আদালত আইনের বিধান অনুযায়ী মামলা চলাকালীন সময়েই অন্তর্বর্তীকালীন ভরণপোষণ (Interim Maintenance) মঞ্জুরের দরখাস্ত করা যায়। আদালত শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায় হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতি মাসের একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা প্রদানের জন্য স্বামীকে তাৎক্ষণিক অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদান করেন।

যদি স্বামী আদালতের আদেশের পরও টাকা না দেন?

আদালতের রায় বা অন্তর্বর্তী আদেশের পরও যদি স্বামী ভরণপোষণের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হন, তবে আদালত নিম্নলিখিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন:

  • স্বামীর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (Freeze) করা।
  • স্বামীর বেতন বা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম বিক্রয়।
  • নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য স্বামীকে সিভিল প্রিজনে (দেওয়ানি জেলে) আটক রাখা।

ভরণপোষণ সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

প্রশ্ন: স্ত্রী চাকরিজীবী হলে কি স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাবেন?
উত্তর: স্ত্রী নিজে উপার্জন করলেও আইন অনুযায়ী স্বামী স্ত্রীর মৌলিক খরচ বহনে বাধ্য। তবে স্ত্রী চাকরিজীবী হলে সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব কোনো অবস্থাতেই পিতা এড়াতে পারেন না।

প্রশ্ন: বকেয়া ভরণপোষণ দাবি করা যায় কি?
উত্তর: হ্যাঁ, স্ত্রী ও সন্তানের বিগত কয়েক বছরের বকেয়া খরচের যুক্তিসঙ্গত হিসাব দেখিয়ে এককালীন বকেয়া অর্থও আদালতে দাবি করা যায়।

চেম্বারের আইনি পরামর্শ

স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও অধিকার নিশ্চিত করতে নীলফামারী পারিবারিক আদালতে দক্ষ ও দায়িত্বশীল আইনি প্রতিনিধিত্ব পেতে আমাদের সাথে সরাসরি আলোচনা করতে পারেন।

স্পার্ক অ্যাডভোকেটস
প্রধান আইনজীবী: অ্যাডভোকেট রাশেদুজ্জামান রাশেদ
🏛️ নীলফামারী চেম্বার: হল রুম ৩, নীলফামারী আইনজীবী সমিতি ভবন
📍 সৈয়দপুর চেম্বার: নিচ তলা, কয়া গোলাহাট পুরাতন মসজিদ এর বিপরীতে, সৈয়দপুর
📞 সরাসরি হটলাইন: +৮৮০১-৭৮৫৪-৬০০৮৫ | ইমেইল: sparkadvocatesbd@gmail.com
অনলাইনে বুকিংয়ের জন্য আমাদের যোগাযোগ পেজ অথবা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেজে আসুন।

প্রশ্ন বা মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য যাচাইয়ের পর প্রকাশ হয়। মামলার গোপন তথ্য বা ব্যক্তিগত নথি এখানে দেবেন না — এটি প্রকাশ্য পাতা। জরুরি হলে ফোন করুন।

পরামর্শ নিন

আপনার বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলুন

মামলার ধরন, সম্ভাব্য সময় ও খরচ — প্রথম আলোচনাতেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিই। আইনি বিষয়ে দেরি করলে অনেক সময় অধিকার হারাতে হয়, তাই দ্রুত যোগাযোগ করাই ভালো।

PRE-EXISTING