আদালতে বিচারাধীন কোনো মামলা চলাকালে নির্ধারিত তারিখে হাজিরা দেওয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল ও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক একটি দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তব জীবনে এমন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—হঠাৎ গুরুতর অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা পারিবারিক জরুরি কোনো সংকট—যার কারণে নির্ধারিত তারিখে আদালতে সশরীরে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে আদালতে মামলার তারিখে যেতে না পারলে করণীয় কী, তা জানা না থাকলে আসামির জামিন বাতিল হতে পারে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে কিংবা দেওয়ানি মামলা একতরফাভাবে খারিজ হয়ে যেতে পারে। নিচে এ সংক্রান্ত সকল আইনি রক্ষাকবচ ও করণীয় তুলে ধরা হলো।
ফৌজদারি মামলায় উপস্থিত হতে না পারলে করণীয় (আসামি পক্ষের জন্য)
ফৌজদারি মামলায় আসামির শারীরিক হাজিরা অত্যন্ত কঠোরভাবে নজরদারি করা হয়। আপনি যদি জামিনে থাকা আসামি হন এবং কোনো তারিখে আদালতে যেতে না পারেন:
- তাৎক্ষণিকভাবে আপনার নিয়োজিত আইনজীবীকে অবগত করা: আদালত বসার আগেই (সকাল ৯:৩০ টার পূর্বে) আপনার আইনজীবীকে ফোন করে আপনার অনুপস্থতির যৌক্তিক কারণ জানান।
- সময়ের আবেদন (Time Petition / হাজিরার সময় প্রার্থনা): আইনজীবী আপনার পক্ষে ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় অসুস্থতা বা যুক্তিসঙ্গত কারণ উল্লেখ করে বিজ্ঞ আদালতের নিকট সময়ের প্রার্থনা (Time Petition) দাখিল করবেন। এতে আদালত সন্তুষ্ট হলে জামিন বহাল রেখে পরবর্তী নতুন তারিখ ধার্য করবেন।
- মেডিকেল সার্টিফিকেট বা প্রেসক্রিপশন সংগ্রহ: অসুস্থতার কারণে যেতে না পারলে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন বা হাসপাতালের ছাড়পত্র সংগ্রহ করে রাখুন, যা পরবর্তীতে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে দাখিল করা যায়।
- আইনজীবী মারফত হাজিরা (Representation under Section 205 CrPC): বিশেষ কোনো মামলায় যদি আসামি নিয়মিত উপস্থিত হতে না পারেন, তবে বিজ্ঞ আদালতের পূর্বানুমতি নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ ধারা অনুযায়ী আইনজীবীর মাধ্যমে স্থায়ী প্রতিনিধির হাজিরার ব্যবস্থা করা যায়।
ফৌজদারি মামলায় চুপচাপ অনুপস্থিত থাকার বিপদ
আইনজীবীকে না জানিয়ে বা আদালতে কোনো পিটিশন দাখিল না করে যদি আপনি মামলার তারিখে অনুপস্থিত থাকেন, তবে আদালত ধরে নেবেন আপনি পলাতক (Absconding)। আদালত তৎক্ষণাৎ আপনার জামিন বাতিল করে আপনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (Non-Bailable Warrant / WA) এবং আপনার জামিনদারের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করবেন।
দেওয়ানি মামলায় উপস্থিত হতে না পারলে করণীয়
দেওয়ানি মোকদ্দমায় ফৌজদারি মামলার মতো ব্যক্তিগত হাজিরার বাধ্যবাধকতা সর্বদা থাকে না, কারণ দেওয়ানি মামলায় পক্ষগণের পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী ওকালতনামা মূলে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। তবে বিশেষ কিছু ধাপে অনুপস্থিত থাকা ঝুঁকিপূর্ণ:
- বাদীর ক্ষেত্রে: সাক্ষ্য বা শুনানির তারিখে বাদী বা তার আইনজীবী উপস্থিত না থাকলে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯, নিয়ম ৮ অনুযায়ী মামলাটি খারিজ (Dismissed for Default) হয়ে যেতে পারে। মামলা খারিজ হলে পরবর্তীতে আদেশ ৯, নিয়ম ৯ অনুযায়ী মিস কেস (Miscellaneous Case) করে মামলা পুনরুজ্জীবিত করতে দীর্ঘ সময় ও অর্থ নষ্ট হয়।
- বিবাদীর ক্ষেত্রে: বিবাদী অনুপস্থিত থাকলে এবং কোনো পদক্ষেপ না নিলে আদালত আদেশ ৯, নিয়ম ৬ অনুযায়ী একতরফা শুনানি (Ex-parte) গ্রহণ করে বাদীর পক্ষে ডিক্রি জারি করে দিতে পারেন।
- করণীয়: দেওয়ানি মামলার তারিখে যেতে না পারলেও আইনজীবী যেন অবশ্যই নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত থেকে পরবর্তী ধাপের জন্য সময়ের প্রার্থনা (Step / Time Petition) ফাইল করেন।
যদি ইতোমধ্যে ওয়ারেন্ট বা একতরফা আদেশ হয়ে যায়, তবে করণীয়
যদি দুর্ভাগ্যবশত যোগাযোগ ঘাটতির কারণে আপনার বিরুদ্ধে পরোয়ানা হয়ে যায়, তবে ভয় পেয়ে পালিয়ে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ নয়:
- অনতিবিলম্বে আইনজীবীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থিত হয়ে অনুপস্থিতির উপযুক্ত কারণ (মেডিকেল ডকুমেন্টসহ) ব্যাখ্যা করে আত্মসমর্পণপূর্বক রিকল (Recall of Warrant) ও জামিন পুনর্বহালের আবেদন করতে হবে।
- দেওয়ানি মামলায় একতরফা আদেশ হলে ৩০ দিনের মধ্যে উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে আদেশ ৯, নিয়ম ১৩ এর অধীনে আদেশ বাতিলের দরখাস্ত করা যায়।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন: একজন আসামি সর্বোচ্চ কতবার সময়ের আবেদন (Time Petition) করতে পারেন?
উত্তর: আইনে নির্দিষ্ট সীমা নেই, তবে বারবার অহেতুক সময়ের আবেদন করলে আদালত ক্ষুব্ধ হয়ে আবেদন নামঞ্জুর করতে পারেন এবং জামিন বাতিল করতে পারেন। তাই কেবল প্রকৃত কারণেই এই আবেদন করা উচিত।
প্রশ্ন: আইনজীবী যদি নিজে না যান, তবে কী হবে?
উত্তর: পক্ষের দায়িত্ব হলো নিয়মিত আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা। আইনজীবী বা পক্ষ কারও কোনো পদক্ষেপ না থাকলে আদালত মামলার গতিবিধির ওপর যেকোনো নেতিবাচক আদেশ দিতে পারেন।
চেম্বারের আইনি সহায়তা
নীলফামারী জেলা ও দায়রা জজ আদালত, সিজেএম কোর্ট বা দেওয়ানি আদালতে বিচারাধীন মামলায় আপনার অনুপস্থিতির দিনে জরুরি টাইম পিটিশন, জামিন সুরক্ষা বা রিকল সংক্রান্ত আইনি সহায়তার জন্য স্পার্ক অ্যাডভোকেটসে যোগাযোগ করুন।
স্পার্ক অ্যাডভোকেটস
প্রধান আইনজীবী: অ্যাডভোকেট রাশেদুজ্জামান রাশেদ
🏛️ নীলফামারী চেম্বার: হল রুম ৩, নীলফামারী আইনজীবী সমিতি ভবন
📍 সৈয়দপুর চেম্বার: নিচ তলা, কয়া গোলাহাট পুরাতন মসজিদ এর বিপরীতে, সৈয়দপুর
📞 সরাসরি হটলাইন: +৮৮০১-৭৮৫৪-৬০০৮৫ | ইমেইল: sparkadvocatesbd@gmail.com
পরামর্শের জন্য ভিজিট করুন আমাদের যোগাযোগ পেজ অথবা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেজে।